
জুলাই আন্দোলনের উত্তাল সময়ে পুলিশের ব্যারিকেড, টিয়ারশেল, লাঠিচার্জ, গ্রেপ্তার ও মামলার ভয় উপেক্ষা করে রাজপথে সক্রিয় থাকা শ্রীপুর উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. শরিফুল ইসলাম সরকার। তাঁর সমর্থকদের দাবি, দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিরলসভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং আহত ও নির্যাতিত কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তা প্রদান করেছেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপি’র আন্দোলন-সংগ্রামের কঠিন সময়ে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সেই সময় শরিফুল ইসলাম সরকার শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কর্মীদের আন্দোলন সংগ্রামে সংগঠিত করা, খোঁজখবর নেওয়া, খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা এবং আহতদের চিকিৎসাসহ নানা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলেন।
সমর্থকদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং রাজনৈতিক কারণে নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এমনকি হামলায় তাঁর একটি পা পর্যন্ত ভেঙে যায় এবং একাধিকবার তাঁর বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে। নিরাপত্তাজনিত কারণে দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে বলেও তাঁরা জানান।
তাঁদের আরও দাবি, নিজের নিরাপত্তার চেয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের নিরাপদ আশ্রয় ও তাঁদের পরিবারের সহায়তাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন শরিফুল ইসলাম সরকার। আত্মগোপনে থেকেও তিনি কর্মীদের খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছেন এবং নিজের উপার্জনের একটি বড় অংশ দলীয় কর্মীদের কল্যাণে ব্যয় করেছেন।
জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে শরিফুল ইসলাম সরকার বলেন, “গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার ও ন্যায্য দাবির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার বিশ্বাস থেকেই আমি রাজপথে নেমেছিলাম। নানা নির্যাতন ও মামলার মুখোমুখি হলেও আদর্শ থেকে সরে আসিনি।”
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক, গাজীপুর জেলা শ্রমিক দলের অন্যতম আহ্বায়ক সদস্য এবং শ্রীপুর উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সমর্থকদের মতে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমেও সম্পৃক্ত রয়েছেন। মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অসহায় মানুষের চিকিৎসা, গৃহহীনদের সহায়তা, রাস্তা সংস্কার এবং ঈদ উপলক্ষে দরিদ্র পরিবারের মধ্যে খাদ্য ও পোশাক বিতরণসহ বিভিন্ন উদ্যোগে তিনি ব্যক্তিগত ভাবে সহযোগিতা করে আসছেন।
শরিফুল ইসলাম সরকার বলেন, “মানুষের সেবাই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। পদ-পদবির চেয়ে জনগণের আস্থা অর্জনই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শ্রীপুর উপজেলার মানুষের পাশে থাকতে চাই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সক্রিয়তা, আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা এবং জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডের কারণে শরিফুল ইসলাম সরকার শ্রীপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত একটি নাম। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও তাঁর সমর্থকদের দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।