1. amin@mymensingherkhobor.com : Amin :
  2. info.popularhostbd@gmail.com : PopularHostBD :
ময়মনসিংহে হকার্স মার্কেটে আগুনের রহস্য উদঘাটন ॥ গ্রেফতারকৃত বাবুর আদালতে স্বিকারোক্তি - দৈনিক ময়মনসিংহের খবর
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মুক্তাগাছা থানার ওসি’র টাকা লেনদেন নিয়ে ফেসবুকে চলছে সাফাই গাওয়া! বিমানমন্ত্রী মিল্লাতের নির্দেশেক্রমে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন যুবদল নেতা নজরুল- বিএনপি সভাপতি মানিক ময়মনসিংহ অঞ্চলে তিন মাসে ৫ ট্রেন লাইনচ্যুত। জনদুর্ভোগ চরমে জনকল্যাণে জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের ত্যাগ স্বীকার করতে হবে: বিমানমন্ত্রী মহাসড়কে চোরাচালান ও অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়েছে শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন ময়মনসিংহে স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত অনলাইনের মাধ্যমে মিন্টু কলেজ শিক্ষার্থীদের ফি আদায়ে সোনালী ব্যাংকের সাথে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর ময়মনসিংহে ডিবি পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৮৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ  গ্রেফতার ২ ময়মনসিংহে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা

ময়মনসিংহে হকার্স মার্কেটে আগুনের রহস্য উদঘাটন ॥ গ্রেফতারকৃত বাবুর আদালতে স্বিকারোক্তি

Reporter Name
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২২
  • ৩৩৬ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ। ময়মনসিংহের আলোচিত গাঙ্গিনারপাড় হকার্স মার্কেটে আগুনে পুড়ে প্রায় সোয়া কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। মাত্র ১৫ দিনের বেতন পরিশোধ না করায় হেলাল হোসেন বিপ্লব ওরফে বাবু পরিকল্পিতভাবে এই আগুনের ঘটনা ঘটিয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য স্বিকার করে বাবু। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে সে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিয়েছে। শনিবার দুপুরে কোতোয়ালি পুলিশের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিনুল ইসলাম ফকির এ সব তথ্য জানান।
মামলার মতে, গত ২২ অক্টোবর গাঙ্গিনারপাড় হকার্স মার্কেট সহ পার্শ্ববর্তী কৃষি মেশিনারীজ মার্কেটে আগুন লাগে। মার্কেটের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা খবর পেয়ে এসে আগুন নিভানোর চেষ্টা সহ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিস এসে নিয়ন্ত্রনে আনে। আগুনে হকার্স মার্কেটের ১৩৭ ও ৬ নং মহসিন টেইলার্স নামক দোকান ঘর সহ দোকানের মালামাল পুড়ে ২০ লাখ টাকা, ৫৯ ও ৬০ নং বুলবুল মেলা নামক দোকান ঘর সহ দোকানের মালামাল পুড়ে ২২ লাখ টাকা, ৫৮ নং সামিয়া সুজ নামক দোকান ঘর সহ দোকানের মালামাল পুড়ে ২ লাখ টাকা, মার্কেটের পাশে থাকা কৃষি মেশিনারীজ মার্কেটের লাকি মেশিনারীজ ষ্টোর নামক দোকান ঘর সহ দোকানের মালামাল ৫০ লাখ টাকা, এসএস এন্টারপ্রাইজ নামক দোকান ঘর সহ দোকানের মালামাল পুড়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা সহ সোয়া কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো বলেন, আগুনের ঘটনাটি পুলিশের কাছে সন্দেহ জনক মনে হলে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দের নেতৃত্বে ১নং ফাড়ির ইনচার্জ এসআই আনোয়ার হোসেন মার্কেটসহ আশাপাশের সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষন এবং ফুটেজ সংগ্রহ করেন।
সিসি টিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ দেখতে পায়, জনৈক ব্যক্তি তরল পদার্থ ছিটিয়ে আগুন দিয়েছে। পরে ব্যবসায়ীদের সহায়তা নেয় পুলিশ। আগুন লাগানোর ছবি পর্যালোচনা করে ব্যবসায়ীরা নিশ্চিত হয়, ঐ ব্যক্তির নাম হেলাল হোসেন বিপ্লব ওরফে বাবু। সে আকুয়া খালপাড় এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম সফিউদ্দিন মিন্টু। এ ঘটনায় মার্কেটের মালিক সমিতির নেতা মোখলেছুর রহমান বাদি হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা নং ৩৮ (১১)২০২২ ধারা ৪৪৭/৪২৭/৮৩৬ পেনাল দায়ের করেন।


মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ১নং ফাড়ির ইনচার্জ এসআই আনোয়ার হোসেন অভিযান চালিয়ে বাবুকে গ্রেফতার করে। বাবু পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, সে মহসিনের টেইলার্সে দর্জির কাজ করতো। তার মুজুরী বাবদ মহসিনের কাছে ১৫ দিনের টাকা পাওনা রয়েছে। ঐ পাওনা টাকা বার বার চাইলেও মহসিন তা পরিশোধ করেনি। গত ১৫ দিন আগে একই দোকানের বিল্লাল নামক অন্য আরেক কর্মচারীর মাধ্যমে পাওনা টাকা চায় বাবু। এরপরও তার পাওনা টাকা না দেয়ায় ক্ষিপ্ত এবং প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠে বাবু। পরিকল্পনা করে মহসিনের দোকান আগুনে পুড়িয়ে দিয়ে তাকে পথে বসিয়ে দিবে। এ পরিকল্পনায় বাবু গত ২১ অক্টোবর আকুয়া বোর্ড ঘর মোড়ের আরিফের দোকান থেকে ৩৫ টাকার পেট্টোল কিনে পানির খালি বোতলে ভরে নিয়ে আসেন। পরদিন বাবু পেট্টোল নিয়ে সকালে আসলে মার্কেটের দারোয়ান তাকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায় তিনি কাজে এসেছেন। এক ফাকে দারোয়ান অন্যদিকে সরে গেলে বাবু পেট্টোল ছিটিয়ে আগুন দিয়ে মুহুর্তে পালিয়ে যায়। এতে আগুনে প্রায় সোয়া কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সবশেষে বলেন, সামান্য কিছু পাওনা টাকার জন্য একজন দোকান কর্মচারী বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি করেছে। যদি দোকান মালিক তার পাওনা টাকা পরিশোধ করতো তাহলে এত বড় ক্ষতি হতো না। তাই দোকান মালিকদের প্রতি তিনি আহবান কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধে সবাই সোচ্চার থাকবেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আনোয়ার হোসেন বলেন, হেলাল হোসেন বিপ্লব ওরফে বাবুকে শনিবার আদালতে পাঠানো হলে সে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিয়েছে। এ সময় কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ, পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত ফারুক হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক ইন্টেলিজেন্ট সুমন রায়, ১নং ফাড়ির ইনচার্জ এসআই আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ টি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved
Design BY POPULAR HOST BD