
তৃণমূল রাজনীতির প্রকৃত সৌন্দর্য ও শক্তি নিহিত থাকে জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং সংকটে পাশে থাকার মধ্যে। ক্ষমতার চাকা ঘোরে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়; কিন্তু যে নেতৃত্ব প্রতিকূল সময়েও জনকল্যাণের পথ থেকে বিচ্যুত হয় না, তা-ই কালের নিয়মে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়। নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ৩ নং ঘাগড়া ইউনিয়নে ঠিক তেমনই এক নিঃস্বার্থ ও ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় রাজনীতি ও সমাজসেবার সুপরিচিত মুখ আলতাব হোসেন আকন্দ। পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা যুবদলের ১ নং যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাব হোসেন আকন্দ দীর্ঘ সময় ধরে ঘাগড়া ইউনিয়নের মানুষের সুখে-দুঃখে ছায়ার মতো জড়িয়ে আছেন। বিগত রাজনৈতিক শাসনামলে নানা নিগ্রহ, মামলা-হামলা ও চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি পার করলেও তিনি কখনো এলাকা ছাড়েননি, দূরে সরেননি সাধারণ মানুষ থেকে। বরং প্রতিটি সংকটে সাধ্যমতো মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করেছেন—জনসেবাই তাঁর রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি।
প্রচারহীন সমাজসেবা: বাইঞ্জা সড়কের রূপান্তর-আজকের যুগে যেখানে সামান্য কাজের বিপরীতে বিপুল প্রচারের প্রতিযোগিতা চলে, সেখানে আলতাব হোসেন আকন্দ সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর এক মানুষ। নিজের সামাজিক ও মানবিক কাজগুলোকে ঢোল পিটিয়ে প্রচার করা তাঁর স্বভাববিরুদ্ধ। ফলে তাঁর অনেক মানবিক উদ্যোগই প্রচারের আলোয় আসেনি। তবে উপকারভোগী সাধারণ মানুষ তাঁর এই নীরব অবদানকে হৃদয়ে ধারণ করেছেন। সম্প্রতি তাঁর একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ পুরো এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ইউনিয়নের বাইঞ্জা এলাকার একটি ব্যস্ত রাস্তা সামান্য বৃষ্টি হলেই চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ত। বছরের পর বছর ধরে চলা এই চরম দুর্ভোগ নিরসনে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ দেখা যায়নি। স্থানীয় মানুষের এই কষ্ট দেখে আলতাব হোসেন আকন্দ আর স্থির থাকতে পারেননি। তিনি সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ও ব্যক্তিগত তদারকিতে রাস্তাটিতে ইট বিছিয়ে দ্রুত চলাচলের উপযোগী করে তোলেন। তাঁর এই তাৎক্ষণিক ও নিঃস্বার্থ পদক্ষেপ বাইঞ্জা এলাকাসহ পুরো ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মনে এক গভীর রেখাপাত করেছে।
পদের লোভ নয়, জনগণের দাবিতেই ‘চেয়ারম্যান’ প্রার্থী: স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,আলতাব হোসেন আকন্দ কোনো পদ-পদবি বা ক্ষমতার মোহে মানুষের সেবা করেন না। কিন্তু ঘাগড়া ইউনিয়নের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর মতো একজন সৎ, কর্মঠ ও নিরহংকার মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বাইঞ্জা এলাকার কয়েকজন প্রবীণ বাসিন্দা জানান:
”আলতাব হোসেন আকন্দ এমন একজন মানুষ, যাকে গভীর রাতে ডাকলেও পাশে পাওয়া যায়। তাঁর মধ্যে কোনো অহংকার নেই, একবারে সাদা মনের মানুষ। আমরা এবার তাঁকে ৩ নং ঘাগড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই। কারণ, তিনি যদি চেয়ারম্যান হন, তবে সরকারি বরাদ্দ ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এলাকার চেহারা বদলে দিতে পারবেন।”
মূলত জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা, আস্থা এবং জোরালো অনুরোধের প্রেক্ষিতেই তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজনীতির নতুন দর্শন: জনগণের পাশেই থাকার অটুট প্রত্যয়-জনগণের এই অভূতপূর্ব সাড়া এবং প্রত্যাশা নিয়ে আলতাব হোসেন আকন্দ অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে এই প্রতিনিধিকে বলেন: ”আমি রাজনীতি করি মানুষের কল্যাণের জন্য, নিজের প্রচার বা সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য নয়। বিগত দিনে নানা ঝড়-তুফান ও রাজনৈতিক চাপ সহ্য করেও আমি আমার ঘাগড়াবাসীকে ছেড়ে কোথাও যাইনি। আজ যখন দেখি আমার সামান্য প্রচেষ্টায় মানুষের মুখে হাসি ফোটে, তখন রাজনীতিক হিসেবে আমার সব কষ্ট সার্থক মনে হয়। এলাকাবাসী ভালোবেসে আমাকে যে সম্মান দিচ্ছেন, তাঁদের সেই চাওয়াকে গুরুত্ব দিয়েই আমি নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন, জনগণের পাশে থাকার আমার এই অঙ্গীকার আজীবন অটুট থাকবে।” জাতীয় রাজনীতিতে এক শিক্ষণীয় বার্তা: বর্তমান সময়ে যখন রাজনীতিতে সুযোগসন্ধানীদের ভিড় এবং ক্ষমতার লোভ মুখ্য হয়ে উঠছে, তখন আলতাব হোসেন আকন্দের মতো একজন মাঠপর্যায়ের ত্যাগী ও সমাজসেবক নেতার গল্প শুধু ঘাগড়া ইউনিয়ন নয়, দেশের সামগ্রিক তৃণমূল রাজনীতির জন্যই এক শিক্ষণীয় ও গঠনমূলক বার্তা। এটি প্রমাণ করে যে—সততা, ধৈর্য এবং নিঃস্বার্থ সেবা দিয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া সম্ভব, যার জন্য কেবল প্রচারের আলোর প্রয়োজন হয় না। ঘাগড়াবাসীর প্রবল প্রত্যাশা, আসন্ন নির্বাচনে এই সৎ ও কর্মঠ মানুষটির বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ৩ নং ঘাগড়া ইউনিয়ন দেশের বুকে একটি আদর্শ ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।