
চব্বিশের পর ময়সনসিংহে তথাকথিত আন্দোলনের নামে সবচেয়ে বেপরোয়া ছিল তার নাম আল নূর মোহাম্মদ আয়াশ।তার বেপরোয়া বানিজ্য ছিল অফিস পাড়া, তদবির ছিল জামিনের আর চাঁদাবাজী করেছেন অফিস পাড়ায়।তিনি মব করেছেন, তৎসময়ের ডিআইজি ড, আশফুর রহমান, সাংবাদিক বদরুল আমীনকে। আয়াস আওয়ামীলীগের জেলা কার্যালয় ভাংচুরে তিনি আলোচনায় আসেন। তবে এখন তিনি ময়মনসিংহ ছেড়ে আতত্নগোপনে আছেন।
ময়মনসিংহের বিতর্কিত এই সমন্বয়ক এর নাম আল নূর মোহাম্মদ আয়াশ। ৩ সন্তানের জনক এই আয়াশ ময়মনসিংহ মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্য সচিব। তার মূল নাম আল উজ্জল আহমেদ। আলোচনায় আছে, তার রয়েছে একাধিক স্ত্রী ও সন্তান, বড় ছেলের বয়স ১৩/১৪:বছর। তার পরিচিত জনেরা তাকে উজ্জল নামেই চিনেন। কিন্তু তিনি তার নাম পাল্টিয়ে রেখেছেন আয়াশ।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জেলা ও মহানগর পর্যায়ে কমিটি দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি খুব একটা যাচাই বাছাই করেনি তার প্রমাণ এই বিতর্কিত আয়াশ।
চাটুকার ও তেলবাজ এই সমন্বয়ক ব্যাক্তিজীবনে নানা অপকর্মের সাথে জড়িত। একাধিক বিয়ে ও সন্তানের কথা গোপন রেখে সুকৌশলে কেন্দ্রীয় এক নেতাকে ফুসলিয়ে ময়মনসিংহ মহানগর কমিটিতে সদস্য সচিবের পদ বাগিয়ে নিয়েছেন।
ডাক্তার না হয়েও নিজেকে ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দেন, এবং কোন ধরণের অভিজ্ঞতা ও লাইসেন্স ছাড়াই অপারেশন করতেন বলে অভিযোগ। ইতিপূর্বে তার নামে অপচিকিৎসা করে রোগী মেরে ফেলার মামলাও রয়েছে।
আন্দোলন পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ক পরিচয়ে নানা অপকর্মে জড়িয়েছেন। অঘটনপটয়সী আয়াস বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য, তদবির ও আহত নিহতদের নিয়ে ব্যবসায় জড়িয়ে বৈষম্যবিরোধী প্লাটফর্মকে চরম বিতর্কিত সৃষ্টি করেছেন।
আন্দোলনের আগে সে নিজেকে ছাত্রলীগ পরিচয় দিতো এবং ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিনের কাছের লোক বলতো। তার সাথে আয়াসের ছবিও রয়েছে।
আন্দোলনে অবশ্য নিয়মিত ছিলনা। কিন্তু আন্দোলন পরবর্তী সময়ে তার কাজগুলো বিতর্কিত এবং প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে।
অনুসন্ধানে,জানা গেছে তার ব্যাপারে বড় বড় কিছু অভিযোগ – আন্দোলন চলাকালীন সময় থেকেই বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে আন্দোলনের খরচের কথা বলে টাকা নিয়ে সেগুলো যথাযথ খরচ না করে ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর কমিটি প্রকাশ করার পর আনন্দমিছিলের কথা বলে একজনের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নিয়ে সেগুলো যথাযথ খরচ না করে হস্তগত করা।
মোটা অংকের লেনদেনের মাধ্যমে ছাত্রদেরকে ভুল বুঝিয়ে ডিআইজি আশরাফ মহোদয়ের অফিসে ঢুকে দুর্ব্যবহার ও হুমকি ধামকি দেওয়া। এবং তার বদলীর জন্য জোর লবিং তদবির করেছেন।
জাতীয় পার্টির এক নেতার তদবির করতে গিয়ে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ইউএনও আরিফুল ইসলাম প্রিন্সের সাথে দুর্ব্যবহার করা হয়। নিজের মামাকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে ১০ লাখ টাকা আদায়। অতঃপর জানাজানি হলে সেটা মামারবাড়ির ওয়ারিশ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেস্টা করেন ।নগরীর ইউনিভার্সেল হাসপাতালের ওটিবয়কে ব্যাক্তিগত আক্রোশে ছাত্রলীগ বলে পুলিশে দেওয়া। অথচ ছেলেটি ছিল আন্দোলনের সমর্থক। বিভিন্ন ডাক্তারদের কাছে বদলী বা বদলী ঠেকানোর কথা বলে চাঁদা দাবি করা। সরকারী হাসপাতালের এক গাড়ীর ড্রাইভারের বদলী ঠেকানোর কথা বলে ৫০,০০০ টাকা নেওয়া বেশ আলোচিত।
মোটরসাইকেল এক্সিডেন্ট করে সেটাকে হামলা বলে চালিয়ে দেওয়া। এবং তার সেই মিথ্যা মামলায় চাপ দিয়ে ৩ জন নিরপরাধকে আটক করান তিনি।
প্রকৃত তথ্য গোপন করে জন্মনিবন্ধন ও আইডি কার্ড পরিবর্তন করে বয়স কমানো। এগুলো ছাড়াও স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি অফিসে নিয়মিত যাতায়াত করেন এবং তাদেরকে বিভিন্ন প্রকার থ্রেট দিতেন।তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বৈছাআর অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ছিলো বিব্রত।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া সারাদেশে বৈছাআর কমিটি স্থগিত হয়েছে। এরপর সে নিজেকে খুব আহত নিহত প্রেমী দেখিয়ে আবারো কেন্দ্রীয় কমিটির আহত নিহত সেল সদস্যের পদ বাগিয়ে নেয়। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটি আবারো তাদের অদূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে।
একজন ভুক্তভোগী জানান, বৈষম্যবিরোধীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে আহ্বান থাকবে, আয়াশের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। চরম বিতর্কিত একজনের জন্য ঐতিহাসিক প্লাটফর্মের সুনাম যেন ক্ষুন্ন না হয়।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিও আহ্বান থাকবে, আয়াশের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হোক। এবং অন্যায়মূলক কোন তদবীর, চাঁদাবাজি করতে গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।