
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানাধীন হাসের আলগী এলাকায় বসতবাড়ীর সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে চাঞ্চল্যকর ভিকটিম উমর আলী(৭০) হত্যা মামলার প্রধান আসামী মোঃ কাজিম উদ্দিন (৫৫)কে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানাধীন হরিয়াখালী এলাকা হতে গ্রেফতার করেছে, র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ।*
উল্লেখ্য যে, এজাহার পর্যালোচনা এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানাধীন উচাখিলা ইউনিয়নের হাসের আলগী গ্রামের আসামিদের সহিত একই গ্রামের ভিকটিম উমর আলী(৭০) এর দীর্ঘদিন যাবৎ বসতবাড়ীর সীমানার জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। উক্ত বিরোধের জের ধরে ভিকটিম উমর আলী(৭০) সহ তার পরিবারের লোকজনদেরকে খুন জখমের হুমকি দিয়ে আসতেছিল। এরই প্রেক্ষিতে গত ১৬ ডিসেম্বর সকাল অনুমান ১০.০০ ঘটিকায় আসামি মোঃ সিরাজুল ইসলাম(৩২), ইসরাফিল (৫০) ও কাজিম উদ্দিন (৫৫)সহ অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জন আসামি পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে লোহার রড, লাঠি সোটা ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাদীর বসতবাড়ীর ভিতর উঠানে প্রবেশ করে বাদীর মা রেজিয়া খাতুন (৬৫), বোন মোছাঃ আছিয়া খাতুন(৩৫) এবং ছোট ভাই বউ মোছাঃ রিনা খাতুন (৩০)দেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে, আসামিগণ বাদীর মা, বোন এবং ছোট ভাই বউকে এলোপাথারী মারপিঠ করিতে থাকিলে ঘটনা দেখিয়া বাদীর পিতা ভিকটিম উমর আলী(৭০) আগাইয়া আসিলে আসামিদের ধাক্কাধাক্কিতে ভিকটিম উমর আলী(৭০) মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং আসামিদের আঘাতের ফলে ভিকটিম উমর আলী(৭০) ঘটনাস্থলেই মারা যান। ভিকটিম উমর আলী(৭০)‘কে হত্যার ঘটনায় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোঃ শহিদ মিয়া (৪৭) বাদী হয়ে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। যাহার মামলা নং-১৪, তারিখঃ ১৬/১২/২০২৩খ্রি., ধারাঃ ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩০২/৫০৬/১১৪/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০। উক্ত ঘটনার পর থেকে আসামীগণ সু-কৌশলে তাহাদের নিজ বাড়ি ত্যাগ করে গা ঢাকা দিয়ে ছদ্মবেশে পলাতক ছিল।
এরই প্রেক্ষিতে, বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে র্যাব-১৪, সদর ব্যাটালিয়ন এর একটি আভিযানিক দল ২৫ ডিসেম্বর অভিযান পরিচালনা করে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানাধীন হরিয়াখালী এলাকা হতে ভোর ০৪.০০ ঘটিকায় উক্ত মামলার মুলহোতা মোঃ কাজিম উদ্দিন (৫৫), পিতা- মৃত আব্বাস আলী, সাং-হাসের আলগী, থানা-ঈশ্বরগঞ্জ, জেলা ময়মনসিংহ ‘কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
ধৃত আসামিদেরকে ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।