
‘তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’—এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উদ্যোগে রবিবার জেলা পরিষদের ভাষা শহিদ আব্দুল জব্বার মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস. এম. হুমায়ুন কবির সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন এবং বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. প্রদীপ কুমার সাহা। সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের পরিচালক মো. মাজহারুল হক চৌধুরী। এছাড়া পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি দেশের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই পরিকল্পিত পরিবার গঠন এবং নিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যাই দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন বলেন, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সাফল্য দলগত প্রচেষ্টার ফল। মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার এস. এম. হুমায়ুন কবির সরকার বলেন, শুধু জন্মনিয়ন্ত্রণ নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে। নিয়ন্ত্রিত ও শিক্ষিত জনসংখ্যাই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তিনি বলেন, আজ যারা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে পুরস্কৃত হয়েছেন, তাদের সাফল্য অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। সুস্থ, পরিকল্পিত ও কর্মক্ষম জনশক্তি গড়ে তুলতে পরিবার পরিকল্পনার কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে মো. মাজহারুল হক চৌধুরী বলেন, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠকর্মীরা মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে শুধু জন্মনিয়ন্ত্রণ নয়, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। একটি সুস্থ পরিবারই একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ দেশের ভিত্তি।
আলোচনা সভা শেষে বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী স্বাস্থ্যকর্মীদের হাতে সনদপত্র ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।