সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সাংবাদিক নিশু সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যের জবাবে এক তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক তাসলিমা রত্না। নিশুকে সরাসরি সম্বোধন করে দেওয়া ফেইসবুক পোস্টে তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণ, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আর্থিক উৎস এবং সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নানা বিবাদের কড়া জবাব প্রদান করেন। পাঠকদের উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ার আহ্বান জানিয়ে দেওয়া সেই ফেইসবুক পোস্টের মূল বিষয়বস্তু নিচে তুলে ধরা হলো:
চিঠির শুরুতে তিনি নিশু সরকারকে বয়সে ছোট উল্লেখ করে বলেন, সাংবাদিকতার শুরুতে সততা বজায় রাখার পরামর্শ তিনি আগেই দিয়েছিলেন। এছাড়া তাঁকে “বুড়ি” বলা প্রসঙ্গে পাল্টা জবাব দিয়ে তিনি জানান, তিনি শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ। পক্ষান্তরে নিশুর নিজের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার (যেমন ডায়াবেটিস) কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বয়স এবং বার্ধক্য সবার জীবনেই অনিবার্য।ত্রিশালে নিশু কোথাথেকে এসেছে আমি তা জানিনা।নিশু অনেক সুন্দর, কিন্তু তার সমালোচনাও কম নয়! তিনি যার মুরিদ তার সমালোচনাও কম নয়? তিনিও ত্রিশালের ঘরজামাই।যারাই তার মুরিদ হয়েছে তাদেরকে মামলার অভিজ্ঞতা নিতে হয়েছে।
নিজের পারিবারিক সততার দাবি তুলে তিনি লেখেন, তিনি কোনো বিবাহিত পুরুষকে বিয়ে করেননি কিংবা একাধিক পুরুষের সংসারও করেননি। সন্তানকে নিয়ে সততার সাথে জীবনযাপন করার বিষয়টি সবাই জানেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ময়মনসিংহে এসে রেস্টুরেন্টে ভক্ত ও সাংবাদিকদের খাইয়ে টাকা বিলানোর সমালোচনা করে তিনি নিশুর আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এছাড়া, নিজের ব্যবহৃত একটিমাত্র মোবাইল স্বামী কিনে দিয়েছেন উল্লেখ করে নিশুর কাছে একাধিক মোবাইলের উৎস জানতে চান।
নিজের ছবি পোস্ট করে অহেতুক ভাইরাল করার চেষ্টার বিষয়ে তিনি জানান, তিনি এমনিতেই পরিচিত। এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশার সাথে জাতীয় পার্টির হয়ে কাজ করার ইতিহাস টেনে তিনি নিশু সরকারকে মনে করিয়ে দেন যে, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ ঐক্যজোটে ছিল।
সাংবাদিকতার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, নিশু সরকার নিজে নিউজ লিখতে পারেন না এবং অন্যকে দিয়ে লেখান। অতীতে নিজের কাছে ক্যাপশন লিখে দেওয়ার অনুরােধের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন—সারাদিন তাঁকে এবং মোনালিসাকে নিয়ে পোস্ট করার এত সময় নিশু কোথায় পান?
পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করানোর হুমকির জবাবে তিনি বলেন, “জেল-হাজত মানুষের জন্যই।” জেলে যেতে তাঁর কোনো ভয় নেই উল্লেখ করে তিনি সেখানে গিয়েও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নিশুকে ছোট বোনের মতো স্নেহ করেন দাবি করে তিনি জানান, শাসন করার অধিকার তাঁর রয়েছে। তিনি নিশুকে কোনো মারধর করেননি, কেবল একটি ভিডিও করেছিলেন। এর জন্য এত সমালোচনা অনুচিত বলে তিনি মনে করেন।